সংসার সুখের সন্ধানে

মাফুজা আর রিয়ান, দুইজনেই ছোটবেলা থেকে পাবনা শহরে বেড়ে উঠেছে। তারা একই হাইস্কুলে পড়াশোনা করত, আর সেই সময়েই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে পরিণত হতে বেশি সময় লাগেনি। হাইস্কুলের দিনগুলো ছিলো তাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। ক্লাসের ফাঁকে, টিফিনের সময় কিংবা স্কুল ছুটির পরে, তারা একে অপরের সাথে সময় কাটাতো। প্রেমের উন্মাদনায় তারা ভবিষ্যতের কথা ভুলে যেত।


তাদের প্রেম ধীরে ধীরে আরো গভীর হতে থাকে, এবং তারা একে অপরকে ছাড়া জীবন কল্পনাও করতে পারত না। ইন্টারমিডিয়েট থাকতে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় ওদের। সেই সময় দুজনের মনেই ছিলো যে, তারা একে অপরের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে।


মাফুজা উচ্চশিক্ষার জন্য পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা এবং নতুন পরিবেশ মাফুজার জীবনে অনেক কিছুই পরিবর্তন নিয়ে আসে। সে নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হয়, পড়াশোনার চাপও বেড়ে যায়। প্রথমদিকে রিয়ান মাফুজার সাফল্যে গর্ববোধ করত, কিন্তু ধীরে ধীরে সে নিজের ভিতরে একাকীত্ব অনুভব করতে শুরু করে। 


রিয়ান যে নিজেকে একা অনুভব করছে, তা মাফুজা প্রথমে বুঝতে পারেনি। রিয়ানের পরিবর্তন মাফুজার চোখে পড়ে, কিন্তু সে ভেবেছিল এটা সাময়িক। তবে সময়ের সাথে সাথে রিয়ানের মনোভাব বদলে যেতে থাকে। সে আগের মতো আর হাসিখুশি নেই, মাফুজার সাথে তার কথা বলা কমে গেছে, আর সে বন্ধুবান্ধবদের সাথে বেশি সময় কাটাতে শুরু করেছে।


মাফুজা তার পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, রিয়ানের এই পরিবর্তন তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে। সে ভাবে, তাদের প্রেম আর আগের মতো নেই। মাফুজা বুঝতে পারে, তাদের সম্পর্কটা আর আগের মতো নেই। সে রিয়ানের কাছে যায় এবং সরাসরি কথা বলতে চায়। 


একদিন মাফুজা আর রিয়ান একসাথে বসে কথা বলে। রিয়ান প্রথমে কিছু বলতে চায়নি, কিন্তু মাফুজার অনুরোধে সে মনের সব কথা খুলে বলে। রিয়ান জানায়, সে নিজেকে অবহেলিত মনে করছে। মাফুজা তার ক্যারিয়ার নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, রিয়ানের জন্য তার আর সময় নেই। সে তার একাকীত্বের কথা জানায়, আর মাফুজা তখন বুঝতে পারে, সম্পর্কের জন্য উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে।


মাফুজা তার ভুল বুঝতে পারে। সে বুঝতে পারে, ক্যারিয়ার গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রিয়ানকে অবহেলা করে সে সম্পর্কের প্রতি অবিচার করেছে। রিয়ানও মাফুজাকে বোঝে, এবং স্বীকার করে যে তারও কিছু বিষয়ে আরো পরিণত হওয়া উচিত ছিলো।


তারা সিদ্ধান্ত নেয়, সম্পর্কটাকে আবার নতুনভাবে শুরু করবে। মাফুজা প্রতিজ্ঞা করে, সে পড়াশোনার পাশাপাশি রিয়ানকে সময় দেবে। আর রিয়ানও প্রতিজ্ঞা করে, সে মাফুজার স্বপ্নকে সমর্থন করবে এবং তার পাশেই থাকবে।


তারা আবার একে অপরকে সময় দিতে শুরু করে, ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত ভাগাভাগি করে নেয়। তারা বুঝে যায়, সম্পর্ক মানে শুধু ভালোবাসা নয়, বরং একে অপরকে বোঝা, সাপোর্ট করা এবং একসঙ্গে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলা। 


এভাবেই মাফুজা আর রিয়ানের জীবন আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হলেও, সেই ভুলগুলো শুধরে নেয়ার চেষ্টা করে তারা। জীবন কখনোই একেবারে মসৃণ হয় না, তবে তারা জানে, একে অপরকে ভালোবাসা এবং সম্মান দিয়ে তারা সকল বাধা অতিক্রম করতে পারবে। 


মাফুজা আর রিয়ান জানে, জীবনের পথে অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে, কিন্তু তারা একসঙ্গে থাকবে—এটাই তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিজ্ঞা। তাদের প্রেমের এই যাত্রা চলতে থাকবে, জীবনের প্রতিটি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রিয়ন্তিকার চিঠি, এক পৃষ্ঠায় ৩২ বার লেখা ভালোবাসি!

একমাত্র প্রিয়ন্তিকা ফুল নিয়ে, আমার কোনো অভিযোগ নেই।

শুভ জন্মদিন, আমার চিরন্তন রহস্য!